নারী ও সমাজ - ঋতুষা দে দাস

0
নারী ও সমাজ
ঋতুষা দে দাস 

নমষ্কার
আমি আজ এক অন্যরকম বাস্তবতা তোমাদের সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। বলা যায় ছোট গল্প , বাস্তব জীবনের গল্প। যাই হোক শুরু করা যাক,,,,,,,

পৃথিবীর বয়স কতো তা আমি সঠিক জানি না। কিন্তু পৃথিবীটা আসতে আসতে ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে সাথে অন্ধ কুসংস্কার নিয়ে।।। আমরা ২০২৩ এর মানুষ কিন্তু আমাদের ধ্যান,ধারণা,মানসিকতা সেই পুরানো দিনের মতোই আছে।
প্রথমে আসি নারী দের কথায়, সেকাল ও একালে কোন দম্পতি র ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম নেয় তারা মুখে প্রকাশ না করলেও মনে মনে ভাবে ইসস্ *মে* হলো আমার🥺। আগেকার দিনে কন্যা সন্তান মাতৃ গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলে তাকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে এক মাটির হাড়ি গরম জল বা দুধে ফেলে মেরে ফেলতো, বা মাটিতে পুঁতে দিত। আবার কেউ কন্যা সন্তান দের গঙ্গা,নদীতে ভাসিয়ে দিত। ভাবুন তো একবার সেই মায়ের মনের কি অবস্থা হয়??? আবার যারা একটু পয়সায়ালা ছিল তারা গর্ভস্থ মায়ের ভ্রূণের পরীক্ষা করতো রিপোর্টে কন্যা সন্তান আসলে ঔষধ দিয়ে সেই বাচ্চা নষ্ট করে দেওয়া হতো।। এত কিছু সহ্য করতো কে???? এই নারীরা, মায়েরা।।। কিছু কিছু মানুষের ধারনা বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাচ্চা নিতে হবে। বিয়ের ৩-৪ বছর পরেও যদি বাচ্চা না হয় সেই মেয়ে *বাজা* , সে কোন শুভ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।। এই সমাজ জীবনে একটা মেয়েদের কত কিছু ই না সহ্য করতে হয়। 
তারপর আসি মেয়েদের শরীরের সবচেয়ে বড় ভূমিকা *ঋতুচক্র*। যে টা না হলে বাচ্চা পৃথিবীতে আসে না। বাড়ির কিছু মান্য গুন্ন ব্যাক্তিরা আছেন বিয়ের পর নতুন বৌ রা ঠিক মত ঋতুমতী হচ্ছে কিনা। কোন মাস যদি বাদ যায় তাহলে সাথে সাথে হাজার প্রশ্নএর ঝুড়ি সামনে আসে। বড় থেকে অবাক লাগে এই ঋতুচক্র চলা কালীন কোন মে মানুষ ঠাকুর ঘরের চৌকাঠ, রান্না ঘরের দরজা পেরতে পারবে না, ওই কদিন স্বামী থেকে আলাদা থাকাই ভালো। এই ঋতুচক্র নিয়ে মানুষের মনে খুব ঘৃণা। এই সময় মেয়েরা অচ্ছুত মানুষ। এই ঋতুচক্র নিয়ে এত মাতামাতি হয় তা বলার নয়। ছোট বেলায় যে মে প্রথম ঋতুমতী হয় তাকে তার মা অন্য ঘরে গিয়ে বলে "আজ থেকে তুমি বড় হয়ে গেছো, যৌবনের পথে এগোচ্ছো, বাড়িতে বাবা জ্যাঠা দাদু কাউকে বলবে না তোমার শরীর খারাপ হয়েছে। " এ এক আজব ভয় । এই সময় দুরন্ত চটফটে মেয়েটার মুখে অন্ধকার নেমে আসে। সে হুট হাট করে কোথাও যেতে পারবে না। সেই পুরানো কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এই একই ভয় মায়েরা তাদের সন্তানদের মনে ভয়ের জায়গা তৈরি করছে। সেই মেয়ে যখন বিয়ে করে অন্য ঘরের বৌ হচ্ছে তখন শাশুড়ি ও একই কথা বলছে উল্টে অচ্ছুতের মত ব্যাবহার করছে।। আসামে মা কামাখ্যা যখন আষাঢ় মাসে ঋতুমতী হয় তখন প্রকৃতির চেহারা অন্য রকম রূপ ধারণ করে।সেখানে ওই ৪দিন ঢাক ঢোল দিয়ে বিশাল পূজোর আয়োজন করা হয় লাখে লাখে লোক সেখানে পূজো দিতে যায়। আর ঘরের মে বৌয়েরা যখন ঋতুমতী হয় তখন অচ্ছুত হয়ে যায় হায় রে সমাজ এ কেমন বিচার,,,,, ছিঃছিঃ।।

আরো একটা দৃষ্টান্ত হলো বিধবা।। কি দোষ তার? কেউ চায় না বিধবা হতে, কেউ চায় না স্বামী র মৃত্যু হোক, কেউ চায় না রঙিন জীবন থেকে ফ্যাকাশে জীবনে প্রবেশ করতে। কোন দম্পতি বিবাহিত জীবন যাই হোক না কেন সবাই চায় আজীবন একসাথে চলতে ২৫ -২৬ বছর সংসার করার পর হঠাৎ যদি কোন স্বামী র মৃত্যু হয় সে স্ত্রী র অবস্থা মাঝ সমুদ্রে ডুবে যাবার মত। শাখা সিঁদুর পরলে যেকোন মেয়ে অপরূপ সুন্দর দেখতে লাগে সে যখন বিধবা র বেশ ধারণ করে সেটা তার কাছে খুব কঠিন।। আগেকার দিনে বিধবাদের কাশি তে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সতীদাহের মত অনেক কুসংস্কার মুলক প্রথা ছিল। আজের যুগে দাড়িয়ে কোন বিধবা মানুষ একটু সাজতে চায় সে কি খুব দোষের??উল্টে সমাজের কাছে পিঠ পিছে শুনতে হয় ইস বিধবার সাজ দেখো? কেউ বলবে তার স্বামী নেই।।।।
আরে মানষিক অবস্থা র কথা তো কেউ ভাবে না। সে যদি সাজ গোজ করে নিজেকে পরিপাটি রাখে তাকে দেখতে সত্যি সুন্দর লাগে। বিধবা দের ও সমাজে জায়গা অচ্ছুতের মতোই। তাদের ছায়া শুভ নয়,। কোন পুরাণে লেখা আছে বিধবা রা শুধু সাদা শাড়ি পড়বে। মাছ মাংস ডিম কিছু খেতে পারবে না। বছরে যত একাদশী আছে সব পালন করতে হবে??? এটা ২০২৩ আগেকার দিন নয় সবার মানষিকতা পরিবর্তন করা খুব দরকার । একটা বিধবা মানুষ সব কিছু পরতে ও খেতে পারে এটা তার ব্যাক্তি গত ব্যাপার। কিছু কুচুটে আত্মিয় সজন আছে দুঃখের সময় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে তার সুখের সময় তার সাজ গোজের সময় ঠিক নাক গলাবে। " *বিধবা হয়ে লাল পড়ছে? বিধবা হয়ে নাকছাবি পড়ছে? বিধবা হয়ে হাতে লোহা পড়ে আছে* ??? এটা তার একদম নিজস্ব ব্যাক্তিগত ব্যাপার। দুঃখের সময় যেমন পাশে কেউ থাকে না সুখের সময়েও কাউকে পাশে রাখার দরকার নেই।। আজকের যুগে ছেলে মেয়েরা বিধবা মায়েদের বিয়ে দিচ্ছে তারাও অনেক ট্রোল হচ্ছে, তাতে কি কারুর জীবন থমকে গেছে কি? কিছু থেমে থাকে নি প্রতিদিন যেমন দিন রাত হয় ঠিক তেমনি মানুষের জীবন ঠিক নিজের গতিতে চলে। 

এত কিছু সহ্য করতে হয় মেয়েদের। তাও তারা প্রতিবাদ করে না। তারা সব সময় মনে করে *বোবার কোন শক্র নেই* । দুর্দিনের পর ভালো সময় টা অপেক্ষা করে।।

           আজ এখানেই লেখাটা শেষ করলাম।জানিও সবাই কেমন লাগলো।। আর যাযা লিখলাম সবটাই বাস্তব বা আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা।।। ভুল হলে ক্ষমা করবেন 🙏।

ঋতুষা দে দাস
ঋতুষা দে দাস 

🆃 🅷 🅰 🅽 🅺   🆈 🅾 🆄

আমাদের ফেসবুক পরিবারের যুক্ত থাকুন!!

লেখা পাঠানা:-  +916289281406

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Please Select Embedded Mode To show the Comment System.*

এইখানে ক্লিক করুন 👇👇
4/sidebar/অনুগল্প

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top