আমিও আসছি কয়েক মিনিট পরে
দীপঙ্কর মণ্ডল
মুখের মধ্যে দেবো বলে
হাতের মধ্যে এই ছোট্ট কাঁচের শিশির টুকু ধরে নিয়ে,
অতোটা ভাবনা কিসের জন্যই বা করছি,
কাদের জন্য ?
বন্ধুবান্ধব দের জন্যে
তারাই বা কি করবে আর,
যখন নিজের আত্মীয়-স্বজন বলতে আপনজনেরাই
মুখ ঘুরিয়ে পাস কাটিয়ে গিয়েছে চলে,
না দেখার ভান করে তাদের জন্য?
সর্বপ্রথম তারাই নিয়েছে সুযোগের সৎ ব্যবহার করে,
যা কিছু ছিলো সম্বল নিয়েছে আইনি কৌশলে হাতিয়ে,
তাও দুঃখ ছিলনা এই মনে
যাকে ভালোবেসে চেয়েছিলাম জীবন সঙ্গী রূপে,
সেও গেলো আমারই চোখের সামনে থেকে অন্যের হাতে হাত দিয়ে চলে,
বাবা মা গিয়েছে সেই ছোট্ট বেলায় না ফেরার দেশে চলে,
ছিলো বোন দিয়ে ছিলাম বিয়ে ওরই পছন্দ করা ছেলের সঙ্গে,
সাধ্য মতন সবই দিয়ে ছিলাম ঘর সংসারের যা কিছু গোছাতে লাগে,
ছেলেকে আংটি, কিছু অর্থ বলেছিলাম আবার পরে দেবোক্ষোণ
বোনকে দিয়েছিলাম মায়ের যা ছিলো সবই আরো কিছু অলংকার কিনে,
তবুত্ত বোনের শশুর শাশুড়ি ননদ করতো নির্যাতন প্রতিনিয়ত ওর সঙ্গে ,
অমুক লাগবে তমুক লাগবে এই সব কথা বলে,
মুখ ফুটে বলেনি কোনদিন বোন আমাকে এসে,
হাসি মুখে আসে চলে যায় দেখা করে,
ভগ্নিপতি খুব ভালো ছিলো গিয়েছিলেন বাইরের রাজ্যে কাজে,
সে এই সব কিছুই জানতো না তার বাবা মায়ের ও বোনের এই কীর্তিকলাপ,
একদিন পেলাম খবর বোনের শ্বশুরবাড়ির ওখান থেকে ,
বলতে বোনের বন্ধুর মুখে নির্যাতনের কথা এই লাগবে সেই লাগবে বলে আর মারে খুব ওকে ধরে,
শুনে চোখের মধ্যে জল এসে গিয়েছিলো বোনের এই দুর্দশা জেনে,
সঙ্গে সঙ্গে ছুটলাম নানান জায়গায় অর্থের প্রয়োজনে,
সন্ধ্যার আগেই জোগাড় করলাম,
নতুন টু হুইলার গাড়ি ও লক্ষাধিক টাকা, যাবো বলে তৈরি হচ্ছিলাম বোনের শশুর বাড়ি,
তখনই ওর বন্ধু এসে খবর দিলো বোন হাসপাতালে ভর্তি,
ও বলা হয়নি আমি মামা হবো ও বলেছিলো আমাকে একদিন কিছুদিন পরে বলতে মাস দুই তিন পরে,
তবে এখন কিসের জন্য ভর্তি হলো হাসপাতলে?
আমি আর কিছু না শুনে বললাম আমি তাকে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে,
কত নম্বর বেডে,
মুখে একটু হাসি নিয়ে আমি মামা হবো বলে,
শুনে সে বললো burn ward ভর্তি,
শুনেই দিকজ্ঞান শূন্য হয়ে গিয়েছিলো ক্ষণিকের জন্যে,
সে বললো গ্যাস সিলিন্ডার লিক ছিলো বুঝতে পারিনি রান্না করার জন্য দরজা খুলে লাইটের সুইচ অন করতেই ল্যামফিউজ হয়ে বাস্ট হয়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়,
প্রতিবেশী পারাবার লোকজন ও দমকলের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করে দেয়,
ওই সব শুনে ছুটতে থাকি হাসপাতালে উদ্দেশ্যে
খবর পেয়েছিলেন বোনের বন্ধুর মুখে ভগ্নিপতি এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছেছে,
যখন গেলাম বোনের কাছে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর চোখের মধ্যে জল অনবরত পরছে মুখে কিছু বলতে পারছে না ও,
আমি কি করে বলবো ওকে সব ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করিস না,
ঠাকুরকে ডাকছি মনে মনে, ওকে চিরো শান্তি দাও এত কষ্ট দিওনা আমি ওর কষ্ট সইতে পারছি না,
পাঠিয়ে দাও বাবা মায়ের কাছে ওরা থাকিবে একই সঙ্গে সুখে,
আমার মনে মনে প্রার্থনা করার সঙ্গে সঙ্গেই কৃপাময় করুনা সিন্ধু কৃপা হয়ে ছিলো,
ওকে চির মুক্তি দিয়েছিলো ওই কষ্টের থেকে,
পাঠিয়ে দিয়েছিলো বাবা মায়ের কাছে,
মনে মনে সহস্য কোটিবার প্রণাম করে ছিলাম ঠাকুরকে,
আমি যখন চলে আসছি গেটের বাইরে ভগ্নিপতি দৌড়ে আসছে হন্তদন্ত হয়ে,
আমাকে দেখতে পেয়েও সোজা burn ward এর মধ্যে ঠুকে গিয়েছিলো,
আমি সেই দিন থেকে আর দেখা করিনি কোনো দিনও,
অনেকেই বলেছিলো ডাইরি করতে থানায় ওদের বিরুদ্ধে,
শুধু ভগ্নিপতির মুখ চেয়ে করিনি আর সেও বোনের জন্য একরকম পাগলের মতোই হয়ে গিয়েছিলো,
আমি তখন পুরোপুরি ভাবেই অনাথ হয়ে গিয়েছিলাম,
আর কেউ নেই আমার জীবনে কার জন্যই বা বেঁচে থাকবো সবাই গিয়েছে আমাকে একা করে দিয়ে, মুখের মধ্যে ঢালতে দেখতে পেলাম বোন আর বাবা মাকে বললাম তাদের,
আমি আসছি তোমরা চিন্তা করোনা কয়েক মিনিট পরে।
🆃 🅷 🅰 🅽 🅺 🆈 🅾 🆄


