পাহাড়ের গায়ের দাগটা
বর্নালী সেনগুপ্ত
পাহাড় থেকে নেমে এসেছিলো নদীটা
নুড়িরা পেছনে পড়ে রয়ে গেলো,
বরফ গলে গলে দিয়েছিলো পূর্ণতা
জলের ঋণ ,নদী ভুলেই গেছে!
পাহাড় থেকে নেমে এক ছুট
নদীটা ,রাস্তা,নগর, পেরোয় অবলীলায়,
বানের জল সরে পড়েছে পলি
নদীমাতৃক হয়ে ওঠা সেই নদীটার।
নদী পেরিয়ে এসেছে অনেকটা পথ
ঘুরে গেছে ঘড়ির কাঁটাগুলোও বহুবার,
বালিকা কালকে দিয়েছে কবেই বিদায়
নদীর বয়স বাড়ছে গতিতে মন্থরতা।
আজকাল নদী , সাগরের ভাবনাতে মগ্ন
ঝাঁপসা চোখে দ্যাখে সঙ্গমের স্বপ্ন,
নদীর শরীর সৃষ্ট শাখা ,উপনদীরা
বলিরেখার ভাঁজের জন্ম দেয় অবিরত।
নদীর চড়াতে সূর্যাস্তের মায়াবী আলো
দিনের কাছে রাত কতো ঋনী
সে হিসেব রাখেই বা কে?
আঁকড়ে ধরার আঙুলগুলোর সাথে দূরত্ব
বাড়তে বাড়তে সব টান শেষ!
বুড়ো পাহাড়টা নুড়িদের কাছে শুধোয়
নদীর কোন খবর জানিস তোরা?
নুড়িরা চুপ করে থাকে ,নতমুখে ,
পাহাড়ের দীর্ঘশ্বাস বরফ শুনতে পায় ।
বরফেরও কান্না জমে আছে বহুদিন
কান্না কি কেবল মানুষের জন্য?
পাহাড়ও শোকে পাথর হয়ে যায়
শোকে কারো একাধিপত্য চলে না ।
নদী ভুলে গেছে সাগরের টানে
পাহাড়ের কাছে তার কত ঋণ,
ভুলে গেছে জলের কত দান
সময় ভুলিয়ে দেয় সবটাই কি?
নাকি স্বার্থপরতার হাতে আসল চাবিকাঠি?
তারপর বৃষ্টি এসে পাহাড়কে ভেজায়
বরফের বুকে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে,
বৃষ্টি,দুদিনের অতিথি ওরা জানে
নদীর মতোই কোন একদিন সেও--
থেকে যাবে পাহাড়ের গায়ে দাগটা!


