নামকরণ
ডাঃ বিশ্বনাথ মহুরী
বীরভূমের রসা নামক গ্রামে একঘরই ব্রাহ্মণ বাস করে।ঘনশ্যাম চক্রবর্তী ওরফে ঘনুঠাকুর ও তস্য পত্নী ফুলমণি ওরফে ফুলদিদিকে গ্রামের সকলেই ভয় করতো। ঘনুঠাকুর যজ্ঞ,পূজাপাঠ,গৃহশান্তি,নামকরণ,মিথ্যাভাষী।
প্রচণ্ড বদ্ রাগী মানুষ।
পাশের গ্রামের ভন্দু বাগতীর দশটি পুত্রসন্তানের নামকরণ পূর্বেই করেছে এই ঘনুঠাকুর।
-কি খবর ভন্দু?
-আজ্ঞে, আমার ঘরেই ফুটবল টিম!
-মানে?
-এগারো নম্বর ব্যাটাটর নামটো বলে দাও ঠাকুর।
-ওহ্ বাপরে বাপ! বলে ঠাকুর যেন আকাশ থেকে পড়ল। মনে মনে ভাবলো এরা "পরিবার পরিকল্পনা"র ধার ধারে না। বিসর্জনের দিনটোকেই মুনে রেখেছে,ঐ যে কি বলে সব ছেলের দল!"আসছে বছর আবার হবে" ছিঃ ছিঃ ছিঃ!
একটু বোস্।
বলেই বাড়ীর ভেতর গিয়ে- ফুলু ঐ লোকটার আবার ছেলে হয়েছে
। এইটা এগারো নম্বর।আমি আর "পতি" দিয়ে নাম খুঁজে পেলুম না।
নামগুলো যথাক্রমে- সেনাপতি,যদুপতি ইত্যাদি শেষ দুই অক্ষর পতি থাকবেই।
-আঃ মর্ , তুমার মাথায় ষাঁড়ের গোবর ভরা আছে।
বলছি দাঁড়াও, ফুলিদিদি চটপট -"ভগ্নীপতি"বলগে যাআআআআও।
-এই ছেলের নাম "ভগ্নীপতি" বুঝলি? এবার বাড়ী যা বলে, দরজা বন্ধ করে দিল।


