শিরোনাম: ☆ বৃষ্টি ভেজা পথে ☆
লিখেছেন: ◇ তফিল উদ্দিন মণ্ডল ◇
ময়মনসিংহ জংশন থেকে বাহাদুরাবাদগামী লোকাল ট্রেন টি ছেড়ে যাবার কথা বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কিন্তু সেদিন ট্রেনটি ছাড়ল দুই ঘন্টা লেইটে অর্থাৎ সাড়ে সাতটায়।
এমনিতে সাড়ে সাতটায় সাধারণত তত অন্ধকার হয় না কিন্তু শ্রাবণ মাসের ভরা বর্ষা।সারা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। কোথাও একটু তারার ঝিলিক দেখা যায় না।তার উপর কৃষ্ণ পক্ষের রাত।
বিকেল থেকেই অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। মনে হচ্ছে আকাশ ফুটো হয়ে পৃথিবীর দিকে উন্মত্ত জলরাশির পাগলপারা যাত্রা।
এরই মাঝেই ট্রেনে উঠলাম।লোকাল ট্রেনে এমনিতেই যাত্রী কম হয় তার উপরে লেইট। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করার মত অত সৌখিন লোক খুব কমই আছে।
আমার বাড়ি ফেরা জরুরি। তাই সাত পাঁচ না ভেবে ট্রেনে উঠে বসলাম। এই কামরাটিতে ৬৮ জন যাত্রী বসার কথা কিন্তু সাকুল্যে যাত্রী হবে পণের কি কুড়ি জন।তাই দীর্ঘ বেঞ্চির মত সীটের উপর ব্যাগটি মাথায় দিয়ে সটান শুয়ে পড়লাম।
মাঝে এক স্টেশন পেরিয়েছি। এমন সময় দেখি সারা কম্পার্টমেন্ট আলোকিত হয়ে উঠল।লোকাল ট্রেনে সাধারণত আলো থাকে না তো এত আলো এলো কোত্থেকে। আমি উঠে বসলাম।দেখি আমার থেকে কিয়দ্দূরে লোকজন পুরণো খবরের কাগজ সীটের নিচে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। আমি কৌতূহলী হয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই ব্যাপারটা কি?
বেচারা আমাকে বলল,আপনি কি সীটে বসে ছিলেন না?
আমি বললাম, না, আমি শুয়ে ছিলাম।
ভদ্রলোক কোলা ব্যাঙের মত ডাগর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কেন,আপনি বুঝি কিছু টের পান নি?
আমি বললাম, না তো
তাহলে আপনার শরীর আল্লাহতালা পাত্থর দিয়ে বানিয়েছে।না হলে ছারপোকার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ সেগুলো দাহ করার জন্য চিতায় আগুন দিচ্ছে আর আপনি শুয়ে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছিলেন।
সত্যি কথা বলতে কি আমি শয্যা গ্রহণের পর পরই আমার পিঠে মনে হচ্ছিল কে যেন বিছুটি পাতা লাগিয়ে দিয়েছিল। সেটা যে ছারপোকার আক্রমণ তা আমি বুঝে উঠতে পারি নি।
সকল স্টেশনে থেমে থেমে বিশ্রাম করতে করতে ট্রেনটি অগ্রসর হচ্ছিল। কোন স্টেশনে দাঁড়ালে আর সেখান থেকে ছেড়ে যেতে চাইত না।কাছাকাছি শ্বশুর বাড়ি থাকলে নিশ্চিতে ভুঁড়ি ভোজন করে অনায়াসে ট্রেন ধরা যেত।
লোকালবাবু গদাই লস্করি চালে হেলেদুলে রাত দশটায় সিংহজানি জংশনে এসে দাঁড়াল। ট্রেনের যাত্রী সংখ্যাও খরায় পোড়া পাটক্ষেতের মত পাতলা হয়ে গেল।আমার কামরায় আমি আর দুজন মহিলা ছাড়া আর কোন যাত্রী রইল না। পুরো পয়ত্রিশ মিনিট রেস্ট নিয়ে ইঞ্জিন মশায় বিকট চিৎকার করে চলতে লাগল। দাগী স্টেশনে এসে দুই মহিলা নেমে গেল।আর এক যাত্রী উঠল বামন। বামনটির সাথে আমি আলাপ করার চেষ্টা করলাম।হায় হায় একী! দেড় আঙ্গুলে বামন বেটার বারো আঙ্গুলে গলার আওয়াজ।ঝিঁঝি পোকার মত।জিনিষ ছোট আওয়াজ বড়।
বললাম, যাবেন কোথায়?
সে বলল,বাঁহাঁদুঁরাঁবাঁদ। ফ্যাসফ্যাসে গলায় নাসিক্যে উচ্চারণ। বুঝতে খুব বেগ পেতে হয়।
বললাম, আপনার বাড়ি কোথায়?
সে বলল,দাঁগী।
গলার এবং চেহারার এমন ভৌতিক ছিরি দেখে আমার আলাপ করার আগ্রহে ভাটা পড়ল। সে খানিকটা দূরে গিয়ে হেড়ে গলায় গান ধরল।গানের ছিরি আরও ভয়ানক।সম্ভবত সে গাইছিল
প্রাণ বন্ধু রে
আশায় আশায় আমার যৌবন গেল রে।
সেটা আমার কানে কোন ছুরতে এসে ধাক্কা দিল সে কথা না বলাই ভাল।
এবার ট্রেন এসে থামল ধর্মকুড়া স্টেশনে। ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমি স্টেশনে নামলাম।স্টেশন থেকে আমার বাড়ি গ্রামীন মাপে পাক্কা পাঁচ মাইল। সাথে একখান ছাতা আছে তবে বৃষ্টির তাণ্ডবের সাথে লড়াই করে সে যে আমার মাথা রক্ষা করতে পারবে তা নিঃসন্দেহে বলার উপায় নেই।স্টেশনের দোকানগুলোতে কুপি বাতি টিনটিন করে জ্বলছে। আমি একটা চায়ের দোকানে বসলাম।ভাবলাম অন্ধকার রাত।এলাকার কোন লোক পেলে হয়তো আলাপে পালাপে যাওয়া যাবে।বসে চা পান করছি আর চারদিকে দৃষ্টি রাখছি। স্টেশনের ঘড়িতে রাত বারোটা বাজার শব্দ শুনতে পেলাম।
বৃষ্টি একটু কমে এলো।আমি ছাতাটা মাথায় ধরে আস্তে আস্তে বের হলাম।এমনি ঘন অন্ধকার যে নিজের শরীরটাও দেখা যায় না। মাঝে মাঝে বিজলি চমকায়।তাতে অন্ধকার আরো বেশি ঘনীভূত হয়।
মূলরাস্তায় উঠতেই আমার বাড়ি পর্যন্ত সারা রাস্তার চিত্র এবং ইতিহাস আমার সামনে ভেসে উঠল।চিত্রটা হল আঁকাবাঁকা পাথার পেরোনো কর্দমাক্ত রাস্তা।শুধু কর্দমাক্তই নয় ভয়ানক রকমের পিচ্ছিল। আর ইতিহাসটা হল কাচারির পর নীলকুঠি। কিংবদন্তি আছে, নীলকরেরা ওখানে চাষীদের ধরে এনে নির্মমভাবে অত্যাচার করত।তাদের পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটাতো। নাকে শুকনো মরিচের গুড়ো দিত।অমানুষিক অত্যাচারে মরে গেলে শিয়াল কুকুর দিয়ে লাশগুলো খাওয়াত।সে সব মানুষের উৎপীড়িত আত্মা এখনও রাত বিরেতে একাকী পথ চলা পথিকের সাথে কথা বলে।
তারপর গঙ্গাপড়া পেরিয়ে বলিয়াদহ পর্যন্ত বিশাল পাথার।এই পাথার খাসি করা পাথার নামে পরিচিত ছিল।রাতে কোন মানুষকে একা পেলে চার পাঁচজনে ধরে তার অণ্ডকোষ কেটে ফেলত। আমাদের এলাকায় রজবদ্দিকে নাকি প্রেতরা এভাবে খাসি করে দিয়েছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বগা মুসল্লির বাড়ির পাশের অচেনা গাছ। গাছের নিচ দিয়ে রাস্তা।হেঁটে যেতেই গাছ থেকে বিশাল আজদাহা না কি মানুষকে থাবা দিয়ে শূন্যে তুলে নিত।সে মানুষকে আর খোঁজে পাওয়া যেত না। বৌসের গড় গ্রামের আবদুলকে না কি সাপে থাবা দিয়েছিল। তাকে আর কখনোই খোঁজে পাওয়া যায় নি।
বৃষ্টিটা এখন টিপটিপ করে ঝরছে।আমার মাথার উপর বৃষ্টির ফোটা এক ধরনের ছন্দোময় মোহনীয়তার সৃষ্টি করছে।আমার সামনে ভাসছে আপাততঃ কাচারির নীলকুঠি। আমি কাচারি মসজিদটা অতিক্রম করে নীলকুঠির কাছে পৌঁছলাম। না,কোন সাড়া শব্দ নেই।আমার গা ছম ছম করছিল।মনে হচ্ছিল এই বুঝি কোন প্রেতাত্মা তার কিম্ভূতকিমাকার কঙ্কালসার দেহ নিয়ে আমার পথ আগলে দাঁড়াবে। আমি রাতের স্তব্ধতা এবং নিকষ কালো আঁধারের সাথে মিশে যেতে চাইছি।হতে পারে এটা আমার আত্ম রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা।
হঠাৎ বিজলি চমকালো।পথের পাশে ঘন বিছুটি বন থেকে দ্রতবেগে কী একটা যেন বেরিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়াল। আমি ভয়ে নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাচ্ছিলাম। কম্পিত কণ্ঠে জোরে জোরে উচ্চারণ করলাম কে? কে?
আঁমাঁকেঁ চিঁনঁতেঁ পাঁচ্ছঁ নাঁ?
সেই বামন যার সাথে ট্রেনে আমার সাথে কথা হয়েছিল।কিন্তু সে তো বাহাদুরাবাদ যাবে বলেছিল।ট্রেন থেকে তো নামেনি।তাহলে সে এখানে এলো কি করে।আমি ভেতরে ভেতরে ঘেমে ভিজে যাচ্ছিলাম।আমার হৃৎকম্প বেড়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি বামন আমাকে ধরে ফেলবে।
এত ভয়ের মধ্যেও আমি সাহস সঞ্চয় করে বললাম, তুমি এখানে কি করে এলে? তুমি না বাহাদুরাবাদ যাবে?
আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে সে পরিষ্কার গলায় শুদ্ধ উচ্চারণে বলল, আমি তোমাকে মিথ্যে বলেছিলাম।আমি এই নীলকুঠিতেই থাকি। নীল চাষ না করার অপরাধে নীলকররা কোন এক গভীর রাতে আমাকে বেঁধে নিয়ে আসে। ওরা আমাকে অমানুষিক অত্যাচার করে ভোঁতা ছুড়ি দিয়ে জবেহ করে। সেই থেকে আমি এখানে ঐ ছাতিম গাছে থাকি।
আমি বললাম, তুমি কি আমাকে কিছু বলবে?
সে বলল, আমি জানি তুমি খুব ভয় পাচ্ছো। ভয় পেয়ো না।এখন তো নীলকরেরা নেই তাই ভয়ের কিছু নেই। আমি না থাকলে তুমি ভয় পেতে।তুমি ডানদিকে চেয়ে দেখ।
আমি রাস্তার ডান পার্শ্বে তাকালাম। কোত্থেকে যে আলো এসে পড়েছে রাস্তার নিচে জানি নি।দেখলাম স্তূপীকৃত লাশ।সবগুলোর গলা কাটা। জিহ্বা দুপাটি দাঁতের ফাঁকে আটকে আছে।তখনও চোখগুলো পৃথিবীর আলো দেখার জন্য করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমার গা শিউরে উঠল। আমি চিৎকার করতে চাইলাম কিন্তু কণ্ঠ থেকে কোন ধ্বনি নিঃসৃত হল না।
বামনটি বলল,এরা সেই সব হতভাগা লোক যারা নীলকরদের উৎপীড়নের শিকার হয়েছিল।
বৃষ্টি আবার তুমুলভাবে শুরু হল।আমি শক্ত হাতে ছাতা চেপে ধরলাম। বামনটি বলল, তুমি যাও।আমি তোমার সাথে সাথে যাচ্ছি। ভয় পেয়ো না।আমি থাকতে তোমার কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
আমি মনে কোন রকম স্বস্তি পাচ্ছি না।আমার মনের কথা সে যেন কীভাবে বুঝে ফেলেছে।সে বলল, ভেবো না,মৃত মানুষের আত্মা কখনও জীবিত মানুষের মত বিশ্বাসঘাতকতা করে না।
আমি পা টিপে টিপে পিচ্ছিল পথে হেঁটে চলছি।কে যেন কখনও আমার সামনে আবার কখনও পেছনে হেঁটে চলছে।কখনও রাতের বিনিদ্র পাখি পাখা ঝাপটালেও আমি শিউরে উঠছি। ছোট্ট উপকারী বামুনটির অস্তিত্ব আমি অনুভব করতে পাচ্ছি।
গঙ্গাপাড়া পেরিয়ে আমি বিশাল পাথারে এসে পথ ধরলাম।ভাবলাম এত পথ না মেরে কোনাকোনি চলে যাই। রাস্তার বাম দিকে নেমে ফসলের ক্ষেত বেয়ে কোনাকোনি পথ ধরলাম।কিছুদূর যেতেই আমি বুঝতে পেলাম যে ভুল করেছি। বৃষ্টিতে পানি জমে।গেছে আর কাঁদায় তো বেহাল অবস্থা। আমি সোজা ডানদিকে মোড় নিয়ে মূল সড়কে এসে উঠলাম।
একটু এগিয়ে রাস্তার বাম পাশে আখ ক্ষেতের কাছে যেতেই এই ধর ধর করে আমাকে চার পাঁচজনে ঘিরে ধরল।আমি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেলাম।আমার ছাতাটাও ধরে রাখতে পাচ্ছিলাম না। হাত থরথর করে কাঁপছিল। মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলাম, হে আল্লাহ তুমি আমাকে খাসি হওয়ার ফেৎনা থেকে নাজাত দাও।হে খোদা এ অসম্মানের চেয়ে আমার কাছে মৃত্যু শ্রেয়।
সেই দৈত্যের দল আমাকে পাকড়াও করে আখ ক্ষেতের মধ্য নিয়ে গেল। আমার মত দুর্বলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগল।আমাকে হেঁচকা টানে মাটিতে শুইয়ে দিল।আমার পরিধেয় পোশাক খুলতে শুরু করল।আমি ভাগ্যের হাতে আমাকে ছেড়ে দিয়ে মরা কাঠের মত পড়ে রইলাম। আমার মনে শুধু চিন্তা হচ্ছিল এরা কী কুরুচি সম্পন্ন প্রেত। মানুষের কোষাণ্ড ছাড়া এদের জলযোগ হয় না।
আমি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে অন্ধকারে বুঝতে পাচ্ছি ওদের একজন ছুরি শানাচ্ছে। হঠাৎ বিজলি চমকের মত ওর হাতে আমি স্টেইনলেস স্টিলের ধারালো ছুরি দেখতে পেলাম। ভয়ঙ্কর আকারের ছুরি দেখে আমার কলিজা ভয়ে লাবডাব করতে লাগল।
ঠিক এই সময় পূর্ব দিক থেকে মনে হচ্ছিল আকাশ পাতাল চুরমার করে কী একটা জানি ধেয়ে আসছে।
ভয়ানক সে শব্দের বেগ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ক্রমেই কাছে চলে আসছে।মুহুর্তে দৃশ্যপট বদলে গেল।চোখের পলকে খাসি করার কারিগরগুলো উধাও।আমি মাটিতে শুয়েই আছি।কে যেন বলছে, ওরা তোমাকে খাসি করতে চেয়েছিল।এত সাহস এই ছ্যাচরা ভুতগুলোর যে আমার লোককে খাসি করানোর মত দুঃসাহস দেখায়।
আমার মনে হচ্ছিল, আমি কি একজন জাগ্রত মানুষ? না কি গভীর ঘুমে অচেতনের ঘোরে স্বপ্ন দেখছি।
একটা শীতল হাত আমাকে টেনে তুলল।আমি স্পষ্টতই টের পেলাম এটা আমার সেই বামন বন্ধু। সে আমাকে বলল, এবার যাও।
খাসি হবার অনিবার্যতা থেকে অপ্রত্যাশিত মুক্তি পেয়ে আমার ভীতি আনন্দে পরিণত হয়েছে।আমি উর্দ্ধশ্বাসে হাঁটছি।
বলিয়াদহ পেরিয়ে কুয়াকাটার রাস্তা ধরে যখন দক্ষিণ দিকে হাঁটছি তখন আবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ঘনকালো মেঘে ঢাকা আকাশ।ভেজা কর্দমাক্ত পথ।কেমন জানি সংক্ষুব্ধ নির্বাক গৃহিণীর মত।
বারমাসি খালের ধারে এসে দাঁড়ালাম।বামপাশে ঝুনকি গাঁয়ের বাঁশঝাড়ে বসে কে যেন শিস দিয়ে গান করছে।এতরাতে বৃষ্টিতে ভিজে কে ওখানে শিস দিয়ে গান গায়।
আমি আমার মত খালের ধার ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করি।হঠাৎ এক পাল ভেড়া আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখলাম। ওদের শরীর দেখা যাচ্ছে না কেবল আগুনের গোলার মত টকটকে চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। কোন কোনটা কৌতূহল ভরে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি তাদের চোখে ভীতিপ্রদ হিংস্রতা দেখতে পাচ্ছি
প্রেতলোকে এই প্রথম আমি একদল সভ্য প্রেতের সন্ধান পেলাম যারা আমাকে ভয় দেখানোর কোন চেষ্টা করল না।আমাকে কোন হুমকি দিল না। সোজা ফারাজি বাড়ির পেছনের জঙ্গলের দিকে চলে গেল।
আমি এখন অচেনা গাছের উত্তরে বগা মুসল্লির বাড়ির পাশে এসে পৌঁছে গেছি।রাতও আর বেশি নেই।আমাকে অচেনা গাছের নিচে দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে হবে।কিন্তু আমি সাহস করে উঠতে পাচ্ছিলাম না। মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাজ করছে।আবার মনে মনে ভাবছি,এত ভয়াবহ সব পরিস্থিতি অতিক্রম করে এসে বাড়ির কাছে ভয় পাব? নিজের পৌরুষে লাগছে। যা হবার হবে আমি থামব না।
আমি কুল কলেমা পাঠ করে গায়ে ফুঁ দিলাম।তারপর দ্রুত পায়ে হা্ঁটতে শুরু করলাম।অচেনা গাছের নিচে যেতেই কে যেন গাছ থেকে লাফ দিয়ে আমার সামনে পড়ে গেল।আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করে দিলাম এক লাফ।লাফ দিয়ে অনেকটা দূরে এসে পড়লাম।আমার পেছনে ঝড়ের বেগে কারা যেন আসছে।দুর্বোধ্য ভাষায় খিস্তি খেউর করছে।আমিও জানের ভয়ে দৌড়োচ্ছি।
দৌড়াতে দৌড়াতে আমি যখন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা অতিক্রম করলাম তখন মনে হল পেছনের সকল কোলাহল থেমে গেল। রাস্তার ওপার থেকে কে যেন ব্রহ্মদৈত্যির মত বলল,তোর মা কচুর পাতায় চাল বিলিয়েছিল তাই বেঁচে গেলি।
উঠানে পা দিতেই কেমন করে জানি মা টের পেয়েছেন।তিনি ঘর থেকেই বললেন,কে? বাবু নাকি?
আমি ঘরে ঢুকলাম।মসজিদ থেকে তখন মুয়াজ্জিনের আযানের সুর ভেসে আসছে।
আচ্ছালাতু খায়রুম মিনান নাওম।
● লেখা পাঠানা:- +91 6289 281 406
● ফেসবুক গ্রুপ:- https://www.facebook.com/groups/851998065527743/?ref=share


